গাজীপুর প্রতিনিধি : ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোছা. সাইদা গাফফারকে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আনোয়ারুলকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেন কাশিমপুর থানা পুলিশ। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর থানা থেকে আসামি রাজমিস্ত্রি আনোয়ারুল ইসলামকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারুল গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর থানার বুর্জুগ জামালপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। নিহত সাহিদা গাফফার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রায়ত স্বামী কিবরিয়া উল খালেক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন আনোয়ারুল।
এবিষয়ে কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) দীপঙ্কর রায় এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নিহত সাহিদা গাফফারের ছেলে সাউথ ইফখার জহির বাদী হয়ে আনোয়ারুলকে আসামি করে কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এঘটনায় আরোকে উজড়িত আছে কিনা এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার নিখোঁজের দুইদিন পর গাজীপুরের কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোছা. সাইদা গাফফার মরদেহ (৭১) উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার প্লটের আনারুল নামের রাজমিস্ত্রি কাজ করেন। নিহত প্রফেসর সাহিদা গফফার হাতে টাকা দেখায় তার হাত থেকে টাকা ছিনিয়ে নিতে চায় রাজ মিস্ত্রি তখন তিনি ডাক চিৎকার দিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, পরে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ওই রাজমিস্ত্রী।
কাশিমপুর থানার উপ পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী আনারুলকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনারুল গাইবান্ধা জেলা সাদুল্লাপুর থানার বুজর্গ জামালপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে।
নিহত সাহিদা গাফফার ছিলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বান্ধবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রফেসর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর মৃত্যু কিবরিয়াউল খালেক এর স্ত্রী।
প্রসঙ্গগত, গত ১১ তারিখে নিহত সাহিদা গাফফারের মোবাইল ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার মেয়ে সাদিয়া কাশিমপুর থানায় গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২২) তারিখে একটি জিডি করেন। জিডি হওয়ার পর থেকেই কাশিমপুর থানা পুলিশ তৎপর হয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মোঃ আনারুল ইসলাম (২৫) কে গাইবান্ধা থেকে আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা শিকার করেন এবং লাশ কোথায় আছে তা বলে দেন। আটক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন প্রকল্পের ভিতর থেকে আজ সকাল ১১ টা সময় লাশ উদ্ধার করে এবং ময়না ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল এন্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।