জামালপুর সংবাদদাতা:
জামালপুর পৌর এলাকার মৃধাপাড়া গ্রামের এক প্রবাসী পরিবারের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং আদালতে মামলা হওয়ার পরও ভুক্তভোগীরা প্রতিকার না পেয়ে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
মামলার বাদি শাহানাজ খানম জানান, তার মায়ের কাছ থেকে দলিলমূলে প্রাপ্ত জমিটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। তার ভাইবোনেরা প্রবাসে থাকায় জমির দেখভাল তিনিই করেন। তবে স্থানীয় জালাল মুসকুরীর ছেলে মো. আজমির মুসকুরীসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জন দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করে। তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা যেকোনোভাবে জমি দখলের হুমকি দিয়ে যায়।
ঘটনার পর শাহানাজ খানম জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো কাজ না করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে কাজ চলতে থাকায় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজমির মুসকুরীসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গত ২৯ অক্টোবর আদালত জনশান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা কেন জারি করা হবে না তা জানতে আগামী ২৪ নভেম্বর বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। তবে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়ই গত ৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা নিজেদের দাবি দেখিয়ে জমির ওপর ওয়ারিশনামার সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।
পাল্টা হিসেবে, গত ১১ নভেম্বর আমিনা খাতুন বাদি হয়ে শাহানাজ খানমসহ ছয়জনকে আসামি করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বলা হয়, শাহানাজ খানম ও অন্য আসামিরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।
শাহানাজ খানম বলেন, মায়ের কাছ থেকে দলিলমূলে পাওয়া জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করে বহু বছর ধরে দখলে আছি। অথচ এখন জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে উল্টো আমাকে হয়রানির জন্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি অসুস্থ, ঢাকায় থাকি, এই সুযোগে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি আদালত ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজমির মুসকুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে কথা বলা হয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় আমরা আইনগত সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।