মালিক উজ জামান, যশোর প্রতিনিধি :: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্নঅঞ্চলে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষি ও বাগান মহাজনের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। প্রতিদিন এ উপজেলার বিভিন্নবাজারে প্রায় লাখ টাকার লিচুবেচা-কেনা হচ্ছে। এখানকার লিচুমিষ্টি রসালো ও সু-স্বাদুহওয়ায় দেশের বিভিন্নস্থানে এর বেশ কদর রয়েছে। দেশের অন্যান্য জায়গায় এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ে লিচুর ফলন হলেও মনিরামপুর উপজেলায় মে মাসের প্রথম দিকে লিচুবাজারে আসে।
এলাকাবাসী ও লিচুচাষিরা জানায়, উপজেলার বড় বড় বাজারগুলো এখন লিচুতে পরিপূণ। প্রতিনিয়ত এই বাজার গুলোতে প্রায় লাখ টাকার লিচুবেচা-কেনা হয়। প্রতিদিন গভীর রাতে চাষিরা ও বাগানের মহাজনেরা লিচুনিয়ে বাজারে বেরিয়ে যায়। ভোররাত
থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই বেচা-কেনা শেষ হয়ে যায়। তারা আরও জানান, উপজেলার প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে লিচুগাছ আছে। যাদের বাড়িতে একটুজায়গা আছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে লিচু গাছ লাগান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক আগে থেকেই মনিরামপুর উপজেলায় লিচুর কেনা-বেচা শুরু হয়। কম শ্রমে বেশি লাভ হয় বলে ধানি জমিগুলোকেও লিচুবাগানে রূপান্তর করেছে চাষিরা। জানা যায়, লিচুগাছে মুকুল ও গুটি আসলে প্রথম দফায় স্থানীয় ও
বিভিন্নজেলার মহাজনের কাছে গাছ বিক্রি করা হয়। গাছে মুকুল ও গুটি আসার পর দ্বিতীয় দফায় আবার গাছ বিক্রি হয়। লিচুছোট
আকার ধারণ করলে তৃতীয় দফায় বিক্রি হয়। লিচুবড় আকার ধারণ করলে চতুর্থদফায় বিক্রি হয়। তবে সব চাষিরাই গাছ বিক্রি করেন। উপজেলার বিভিন্নবাজারে দেখা যায়, গভীর রাত হলেও বাজারে চাষিদের ভিড় বেজায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে লিচুচাষিদের আগমনও বাড়তে থাকে। চাষিদের কেউ কেউ কাঁধে বোঝাই করে আবার কেউ কেউ মাথায় করে লিচুনিয়ে বাজারে আসছেন। বাজারে প্রতি হাজার দেশী লিচু১৫০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা, প্রতি হাজার এলাচি ও চায়না লিচু২০০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্যামকুড় ইউনিয়নের লিচুচাষি আব্দুল কাদের বলেন, তার একটি বাগানে ৪০-৫০ টি লিচুগাছ রয়েছে এ পর্যন্ততিনি ৩০ হাজার
টাকা পর্যপ্ত লিচু বিক্রি করেছেন।
একই গ্রামের ফারুক হোসেন, রাজ্জাক ও মোসলেম মোল্লাসহ একাধিক লিচুচাষিরা জানায়, তাদের প্রত্যেকেই এ পর্যন্তলিচুবিক্রিতে লাভ ছাড়া ক্ষতি গুনতে হয়নি। লিচুর বাম্পার ফলন ও বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট কিন্তুপ্রথম দিকে রমজান মাস হওয়ায় দামটা একটুকম ছিলো তবে ইদের পর এখন আবার বাজার ভালো দামও বেশি।
তারা আরও জানান, বাগানে যে পরিমাণ লিচুআছে তাতে আরও ২০- ২৫ দিন বাজারে আসতে পারবেন তারা। এলাকার যারা ছোট ব্যবসায়ী আছে তারা আমাদের কাছ থেকে কম দামে কিনে বড় ব্যবসায়ীদের লিচু কিনে দেওয়ার ফলে বড় ব্যবসায়ীরা বাজারে না যেয়েই লিচুকিনতে পারছে তাই আগের মতো লিচুচাষিদের ভাল দাম পাওয়া যায় না। যেমন গত বছর যে ১০০ লিচুবিক্রি করেছি ২৫০ টাকা আর এবার সেই লিচুবিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় শুধুএলাকার দালালদের জন্য। পুলিশ প্রশাসন যদি একটুতদারকি করত তাহলে কৃষকরা দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেত আর ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে লিচুসরাসরি কিনতে পারত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, মনিরামপুরে এবার গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে লিচুর ফলন হয়েছে। বিগত
বছরে নতুন বাগান গুলোতে ব্যাপক হারে পরিচর্যার কারণে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমের শীলা বৃষ্টিতে লিচুফেটে গিয়ে ক্ষতিও হয়েছে অনেক। গোলাপি লিচুর বেচাকেনা চলছে। গোলাপি
লিচুর ১৫ দিন পরেই পাকতে শুরু করবে বোম্বাই, চায়না-২ এবং বেদানা জাতের লিচুএসব লিচুতে দাম ভালো পেলে ক্ষতি না হয়ে
বরং লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন এখানকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।