ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, আগামী ১৭ জুন থেকে ২১ জুলাই (ঈদের দিন) পর্যন্ত নগরীর ১৯টি অস্থায়ী হাটে পশু বিক্রি করা যাবে। এর বাইরে উত্তর সিটি এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট এবং দক্ষিণ সিটি এলাকায় সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটেও কোরবানির পশু বেচা–কেনা চলবে।
দক্ষিণ সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন সোমবার বলেন, হাটে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। করোনা মহামারির কারণে কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে অস্থায়ী হাটের ইজারাদারদের শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারাদারদের ইজারা বাতিল করা হবে।
করোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম শহরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছিল করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ বছর এখন পর্যন্ত কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সুপারিশ দেয়নি তারা। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট শারীরিক উপস্থিতিতে না করে অনলাইনে করার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দক্ষিণ সিটির অস্থায়ী হাটগুলো হলো— হাজারীবাগ এলাকার ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠ-সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন ১ ও ২-এর খালি জায়গা, গোলাপবাগস্থ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মার্কেটের পেছনের খালি জায়গা, উত্তর শাহজানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের ক্লাব-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা এবং লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ৯টি এলাকায় অস্থায়ী হাট বসানো হচ্ছে সেগুলো হলো—বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাব নগর) ব্লক-ই, সেকশন-৩ এর খালি জায়গা, কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রীজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশ্বের খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক শহিদ নগর হাউজিং (আবাসিক) প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অবস্থিত বৃন্দাবন হতে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) অস্থায়ী পশুর হাট, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়ক সংলগ্ন রাজধানী হাউজিং, স্বপ্নধারা হাউজিং ও বছিলা গার্ডেন সিটির খালি জায়গা এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল লিমিটেড ও যমুনা হাউজিং কোম্পানি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি জায়গায় পশুর হাট বসানো হবে।
দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, করোনা সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন কয়েকটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাটে হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবান রাখতে হবে। গায়ে জ্বর থাকলে কাউকে হাটে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। হাটে প্রবেশকারীকে গ্লাভস, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।
এ ছাড়া হাঁটে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য পৃথক গেট করতে হবে। নির্ধারিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটে প্রবেশ-বের হতে হবে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা যাতে হাটে প্রবেশ করতে পারেন সেই বিষয়টি ইজারাদারদের নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত না মানলে ইজারা বাতিলও হতে পারে। যদিও প্রতিবছর ইজারাদারদের কিছু শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু এসব ভঙ্গ হলে ইজারা বাতিলের কোনো নজির দেখা যায়নি।






