স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, শব্দ করে পড়লে পড়ার সঙ্গে পাঠকের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে চোখে দেখে ও কানে শুনলে সেটি সহজে আত্মস্থ হয়। ফলে তা মনে থাকে।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব শব্দ করে পড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। নতুন প্রজন্মকে শব্দ করে পড়ার মাধ্যমে মেধা চর্চায় উৎসাহিত করতে বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো ’বিশ্ব শব্দ করে পড়া দিবস (Word Read Aloud Day 2022) পালন করে ‘রিড অ্যালাউড বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে ঢাবির সাবেক উপাচার্য জানান, ১৩ বছর ধরে তারা দেশে এই দিনটি উদযাপন করে আসছেন। কিন্তু শব্দ করে পড়ার বিষয়টি শুরু থেকেই ছিল। তিনি যখন শিশু, তখন তার অভিভাবকরাও তাকে জোরে জোরে পড়তে বলতেন। এতে করে অভিভাবকরা যেমন নিশ্চিত হতেন তাদের সন্তানরা পড়ছে কি না, অন্যদিকে উচ্চারণ বা বানানে ভুল হলেও তা সংশোধন করে দিতেন।
তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের নিজেকে উপস্থাপনের জন্য সুন্দর বাচনভঙ্গি, শুদ্ধ উচ্চারণ, পরিষ্কার করে কথা বলতে পারা ও মানুষকে বোঝানো জরুরি। আর ছোটবেলা থেকে শব্দ করে পড়তে শেখার মাধ্যমে এসব গুণাবলী অর্জন করা যায়।’
ওয়েবিনারে চিকিৎসক ডা. নবকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘মানুষ কোনো কিছুতে আগ্রহ পেলে সেটি সহজে মনে রাখতে পারে। তাই পড়া মুখস্ত করার জন্য বিষয়বস্তুর প্রতি মনযোগ আকর্ষণের প্রয়োজন আছে।’ তিনি বলেন, ‘শব্দ করে পড়লে সেটি কানের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এছাড়া হাত দিয়ে স্পর্শ ও চোখ দিয়ে দেখার ফলে একাধিক ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিষয়বস্তু আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। ফলে সেটি মনযোগ আকর্ষণ করে ও সহজে মুখস্ত হয়।’
ওয়েবিনারে উপস্থিত খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেমেয়ার শব্দ করে পড়লে তারা মনোনিবেশ করতে পারে সহজেই। এতে পড়া আত্মস্থ করতে পারে। বর্তমানে ডিভাইস নির্ভর জীবন হওয়ায় তারা অনেকটাই অন্তর্মুখী হয়ে পড়েছে।’ অন্তত বই যদি জোরে উচ্চারণ করে পড়ে তাতেও অভিভাবকদের সঙ্গে দূরত্ব কিছুটা হলেও ঘুচতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তাদের পড়ায় কোনো ভুল হলে সেটিও অভিভাবকরা শুধরে দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে রিড অ্যালাউড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রূপক সিংহ বলেন, ‘শব্দ করে পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন বিষয়বস্তু আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।’ এভাবে পড়াশোনা শেখার পাশাপাশি নিজেদের সুন্দর ও সঠিন বাচনভঙ্গির আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে দেশের জন্য কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিথিদের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থীরা শব্দ করে পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রবন্ধ পাঠ, আবৃত্তি, গান ও ভাবনা বিনিময় করেন তারা।
সারাবাংলা/আরএফ/পিটিএম