নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনকে অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদেরকে ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ মামলাটির রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে এ আদেশ দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের গেন্ডারিয়া ইউনিটের সাবেক সহ-সভাপতি এনু ও একই ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপনসহ ৭ জনের উপস্থিতিতে রায় দেওয়া হয়। বাকি চার আসামি পলাতক। রায়ে প্রত্যেককে ৪ কোটি টাকার সমানুপাতিক হারে জরিমানাও করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন-মেরাজুল হক ভূঁইয়া শিপলু, রশিদুল হক ভূঁইয়া, সহিদুল হক ভূঁইয়া, জয় গোপাল সরকার, পাভেল রহমান, তুহিন মুন্সি, আবুল কালাম আজাদ, নবীর হোসেন শিকদার ও সাইফুল ইসলাম। এর মধ্যে শিপলু, রশিদুল, সহিদুল ও পাভেল পলাতক। অপরদিকে, আসামি তুহিন জামিনে রয়েছেন। বাকি ছয় আসামি কারাগারে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন ছুটিতে থাকায় রায় ঘোষণা করা হয়নি। পরে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মনির কামাল রায় ঘোষণার জন্য ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। গত ১৬ মার্চ মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুই ভাই এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে সিন্দুকভর্তি টাকা ও গয়না জব্দ করার পর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম ও এনুর বন্ধু হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সব মিলিয়ে ওই অভিযানে পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, আট কেজি স্বর্ণালঙ্কার এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে র্যাব। সেখানে কর্মচারী কালামের স্ত্রী ও মেয়ের দেখানো মতে চার তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) জিয়াউল হাসান ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ওয়ারি থানায় মামলা করেন।
এরপর ২০২০ সালের ২১ জুলাই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির পরিদর্শক মোহাম্মদ ছাদেক আলী।
আরও পড়ুন:
গাজীপুরে শিশু চুরি করে বিক্রির চারদিন পরে উদ্ধার, গ্রেফতার ৩