বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১: গেটম্যানকে আসামি করে মামলা – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২
  • ১৫৪ সময় দেখুন
মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১: গেটম্যানকে আসামি করে মামলা – Corporate Sangbad


নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খৈয়াছড়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহতের ঘটনায় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।

শনিবার (৩০ জুলাই) ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, মিরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হওয়ার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবহেলা জনিত হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৩৮ (ক)/৩০৪ (ক)/৪২৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে মীরসরাই রেলক্রসিং এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা মীরসরাইয়ে খৈয়াছড়া পানির ঝরনা দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুপুরে খৈয়াছড়া রেল স্টেশনের কাছে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন মহানগর প্রভাতীর ধাক্কা লাগে।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল, মোহাম্মদ আসিফ ও সাজ্জাদ হোসেন এবং মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা (২৬)।

ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় মাইক্রোবাসটিকে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় যানটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ১১ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠান। দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ। পরে রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটিকে সরিয়ে ফেলার পর স্বাভাবিক হয় রেল চলাচল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকা থেকে একটি মাইক্রো বাসযোগে খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে যান চালকসহ ১৬ যুবক। ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে দুপুর পৌনে একটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী ট্রেন তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ১১ জন নিহত হন । এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও ৫ জন। তানভীর হাসান হৃদয়সহ আহত ৫ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হৃদয় হাটহাজারী থানার আমান বাজার শিকারপুর এলাকার প্রবাসী আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি হাটহাজারীর কেসি জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) লাবিব আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের চালকসহ ১১ যুবক। আহত ৫ জনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তারা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার থেকে ঝর্ণা দেখতে এসেছিলেন। তারা আমান বাজারের আর এন জে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৪ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
চট্টগ্রাম জিআরপি পুলিশের সীতাকু- ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) খোরশেদ আলম জানান, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি কেটে কেটে লেন থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন ।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর