শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

মাকে বেঁধে মেয়েকে দলবদ্ধ গণধর্ষণ, দেড় যুগ পর আসামি গ্রেফতার – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ১১৬ সময় দেখুন
মাকে বেঁধে মেয়েকে দলবদ্ধ গণধর্ষণ, দেড় যুগ পর আসামি গ্রেফতার – Corporate Sangbad


কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ২০০৩ সালে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দেড় যুগ ধরে পলাতক মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সর্বশেষ আসামি কাশেমকে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) ভোর ৫টায় র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকা হতে ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ২০০৩ সালে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একমাত্র অবশিষ্ট আসামী কাশেম (৫৫), পিতা-ফকির আহাম্মদ, সাং-নাজিরপুর, থানা-সোনাগাজী, জেলা-ফেনীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গত ১৮ অক্টোবর একই মামলার আরেক আসামি লাতু মিয়াকে গ্রেফতার করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হয়।

জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ীতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে বিধবা মা ও ১৩ বছরের মেয়েকে জোর করে টেনে হিঁছড়ে বাইরে নিয়ে এসে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে আটকে রেখে মায়ের সামনেই মেয়েকে লাতু মিয়া, ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও কাশেম মিলে গণধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে পরদিন সোনাগাজী থানায় মামলা নং-০৪ তারিখ-১৩/০৫/২০০৩ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯ (৩) ধারায় আসামী মোঃ ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম, কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১৩ আগস্ট ২০০৩ বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ১৪ জুলাই ২০২২ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালত জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ অভিযুক্ত তিন আসামীর বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে ০২ লাখ টাকা অর্থদন্ড করেন এবং মোঃ ফারুকের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন।

ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার সময়ে সোনাগাজী এলাকায় মোঃ ফারুক এর নেতৃত্বে সে, জাহাঙ্গীর আলম ও লাতু মিয়াসহ আরও অনেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নিমিত্তে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ উপার্জন, ভূমি দখল, জলমহাল দখল, খাস জমি দখল, এলাকায় গ্রæপিং সৃষ্টি করে ফায়দা নেয়া, বিবদমান বিষয়ে উসকানী দেয়া, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির জন্য সশস্ত্র মহড়া দেয়া, অসহায় নারীদের উত্যক্ত করাসহ তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াত। উক্ত ঘটনার ভিকটিমের পিতা শিশুকালে মারা যাওয়ার পর ভিকটিমের বিধবা মাতা অতি কষ্টে দিন যাপন করছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম ও তার মাকে কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু উক্ত কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে তারা চারজন মিলে উক্ত ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরদিন উক্ত ঘটনা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে সে, জাহাঙ্গীর ও লাতু মিয়া পলাতক জীবন শুরু করে। কিন্তু উক্ত সময়ে উক্ত মামলার আসামী ফারুক নিয়মিত বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিত। জামিনে বের হওয়ার পর মামলা তুলে নেয়ার জন্য তারা ভিকটিম ও ভিকটিমের মাকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে।

আসামী কাশেম এর জীবন বৃত্তান্তঃ গ্রেফতারকৃত কাশেমের কোন দৃশ্যমান পেশা নেই। সে নিরক্ষর। সে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। তার নামে ফেনী সোনাগাজী থানায় একটি গণধর্ষণ ও চুরি মামলাসহ দুইটি মামলা রয়েছে।

কাশেম এর পলাতক জীবনঃ ২০০৩ সালে গণধর্ষণের ঘটনার পর তার পলাতক জীবন শুরু হয়। উক্ত ঘটনার পর সে কুমিল্লা গিয়ে দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। তারপর অভ্যাসগত কারণেই সে আবার চুরি ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একটি চুরির ঘটনায় সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে। সে কিছুদিন শনির আখড়া এলাকায় পলাতক থাকা অবস্থায় মাঝেমাঝে তার নিজ বাড়িতে এসে গোপনে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করত।একপর্যায়ে সে ঢাকায় এসে শনির আখড়া এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবনযাপন করে। মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ হওয়ার পর সে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়ার আশংকা থাকায় পরবর্তীতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকায় তার ছোট মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে দিনমজুর ও কৃষি কাজ করে আত্মগোপন করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর