বরিশাল প্রতিনিধি : ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই আজ সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) র্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌ আদালতে করা মামলায় লঞ্চের চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গতকাল রোববার দুপুরে নৌপরিবহন আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জয়নাব বেগম এ পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে নৌ অধিদপ্তরের মুখ্য ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন নৌ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা (প্রসিকিউটর অফিসার) বেল্লাল হোসাইন।
বেল্লাল হোসাইন বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- লঞ্চটির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল আরাফ অ্যান্ড কোম্পানির চার মালিক হামজালাল শেখ, শামিম আহম্মেদ, রাসেল আাহাম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি, লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার রিয়াজ সিকদার, ইনচার্জ চালক মো. মাসুম বিল্লাহ, দ্বিতীয় মাস্টার খলিলুর রহমান ও দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমডি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আসার পর রাত তিনটার দিকে সেটিতে আগুন ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই তিন তলা বিশিষ্ট লঞ্চটিতে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ভয়াবহ আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে নদীতে লাফ দেন। তাদের অনেকে প্রাণে রক্ষা পেলেও সাঁতার না জানা অনেকে ডুবে মারা যান। আবার অনেকের মৃত্যু হয় আগুনে পুড়ে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের ঝালকাঠি, বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।