পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো ব্যবসা খুব তাড়াতাড়ি সফল হয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ! আপনার একটি সঠিক পদক্ষেপ আপনার ব্যবসাকে সফলতা এনে দিতে পারে। শখের বসে কোনো কাজ ও কিন্তু ছেড়ে দিলে হবে না। আপনার শখকে ধরে রাখতে হবে। তেমনি একজন লোক শাহজাহান। তিনি বেনাপোল ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
২০১৬ সালে শখের বসে ছয়টি এলাচ চারা সংগ্রহ করেন। সেই ছয়টি এলাচ চারা থেকে আজ তার লাখ লাখ চারা। ভারত, শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশেও শুরু হলো এলাচ চাষ। তার এলাচ স্থানীয় মানুষসহ বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ও রপ্তানি করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি তার প্রথমিক পদক্ষেপ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, মূলত শখ থেকেই ২০১৬ সালে তিনি মাত্র ছয়টি এলাচ চারা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এলাচ চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার পর থেকে তার এ সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর আরও কয়েকটি চারা কিনে এলাচের চাষ শুরু করেন। আর এখন পর্যন্ত এই এলাচ বাগান থেকে তিনি আয় করেছেন আট লাখ টাকা।
দেশে এলাচ চাষে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশ এলাচ চাষ করার জন্য খুবই উপযোগী। কারণ এক একর জমিতে বারশ এলাচ চারা অতি সহজেই রোপণ করা যায়। পাঁচ বছর পর থেকে সেই এক একর জমির এলাচ গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় পনেরশ কেজি এলাচ পাওয়া যাবে। অন্যদিক ভাবতে গেলে, অন্যান্য সব মসলার মতো এলাচ চাষের জন্য আলাদা কোনো জমি বা নিয়মিত পরিচর্যার দরকার হয় না। আর অন্যান্য মসলা চাষের তুলনায় এলাচের চাষে খরচ কম হয় এবং লাভ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। এছাড়া এই মশলা বিদেশে রপ্তানি করারও সুযোগ রয়েছে। তাই বেকার যুবকরা সহজেই এলাচ চাষ করে নিজেদের বেকারত্ব দূর করতে পারেন।
লাভের বিষয়ে শাহজাহান জানান, এলাচ গাছে ফল আসতে পাঁচ বছর সময় লাগে। এক একর জমিতে এলাচ চাষ করতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা (চারা,কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক খরচ সহ) খরচ হয়। ৫ বছর পর থেকে এসকল এলাচ গাছ থেকে প্রতি বছরে প্রায় ১৫০০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। এছাড়া একটি এলাচ গাছ সাধারণত ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাচ চাষে আগ্রহী ব্যক্তিরা তার কাছ থেকে চারা কিনে বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ করা শুরু করে দিয়েছে।
তার এই উদ্যোগ দেখে বিস্মিত হয়ে কৃষি বিভাগ ও মসলা ইনস্টিটিউশনের কর্মকর্তারা বেশকয়েক বার তার এলাচের বাগান পরিদর্শন করেন।
এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম কুমার বলেন, “এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার শাহজাহানের এলাচ ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। তাকে সব ধরনের সহযোগীতা ও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।এছাড়াও দেশের মসলা গবেষকরাও তার এলাচ বাগাম দেখে গেছেন। তারাও সম্পূর্ণ আশাবাদী। শাহজাহান যেভাবে পরিশ্রম করছেন খুব দ্রুতই তিনি সফলতা পাবেন।”
আমরা আশাবাদী যে, এভাবে আরও সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের দেশের রপ্তানি আরও বেড়ে যাবে এবং তরুণ প্রজন্মরা বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে।
এরকম আরও ব্লগ পেতে এখানে ক্লিক করুন
Author
Sayyeda Porna
Intern, Content Writing Department
YSSE