সবাই শুনে চলছি, বর্তমানে নেটওয়ার্কিং যত বেড়ে যাচ্ছে, দুনিয়া ততই ছোট হয়ে আসছে। এত মানুষের ভিড়ে তাদের এতো কাজ সামলানোর জন্যও এখন প্রয়োজন নানান রকমের জায়গার। আর তা নিশ্চিত করতেই এবার কিছু অভিনব মানুষ খুঁজে বের করেছে এক অভিনব উপায়। এর নামই হল ছায়া। ছায়া হল বাংলাদেশের প্রথম স্পেস শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস। এখানে আপনি আপনার চাহিদা ও পছন্দমতো জায়গা খুঁজে নিতে ও দিতে পারবেন সহজেই।
প্রতিষ্ঠাকথা
ফারহিয়া তাবাসসুম ও মেহরাব আনোয়ার বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে এমন স্পেস শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস এর উদ্ভাবন করেন। তারা দু’জনই স্কলাস্টিকায় পড়াশোনা করেছেন। ২০১৬ সালে একসাথে স্ক্র্যাচবোর্ডের হয়ে কাজ করার সময় প্রথম তারা বুঝতে পারেন যে, একটি কন্টেন্ট বানাতে গেলেও পছন্দসই জায়গার প্রয়োজনীয়তা কেমন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় এমন অভিনব ছায়া’র।
আসুন, আপনার ধারণাটি পরিষ্কার করা যাক। এটি এমন একটি মার্কেটপ্লেস, যেখানে একটি ছোট ঘরে বসেও তারা কাস্টমারদের দিয়ে যাচ্ছে প্রয়োজন অনুসারে নানান রকম জায়গার মূল্যসহকারে খোঁজ ও বুকিংয়ের সুবিধা। অর্থাৎ, ছায়ার অংশ হয়ে আপনি সহজেই দেখতে পারবেন মূল্যসহ বিভিন্ন জায়গার খোঁজ। পছন্দসই হয়ে গেলে করতে পারবেন বুকিংও।
মজার ব্যাপার হল, এই স্পেস শেয়ারিং আমাদের প্রচলিত কনভেনশন সেন্টারের তুলনায় একদম আলাদা। এতে শুধুমাত্র ছায়া’র অধিকারীরাই লাভবান হবেন তা নয়, বরং এখানে থাকছে স্বল্প বিনিয়োগে ভালো মুনাফার পাশাপাশি অনেকের বাড়তি আয়ের সুযোগ।
প্রয়োজনের প্রতিফলন
স্বাভাবিকভাবেই আজকের ঘনবসতিতে নিজের প্রয়োজনমতো জায়গা মেলা ভার। হয়তো কখনও আপনার প্রয়োজন কোন মিটিং রুম, কখনো বা বড় হলরুম, এমনকি মাঝেমাঝে একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো জায়গা। হতে পারে আপনার প্রয়োজন একটি কনফারেন্স করার কিংবা অ্যানিভার্সারি কাটানোর মতো বড় হল, হতেই পারে আপনার উদ্দেশ্য কোন পার্টি কিংবা শুধু মাত্র ফটোশ্যুট। কিন্তু আজকের সময়ে এমন মন মতো জায়গা পাবেন কিভাবে?
এর উত্তরেই আজকের ব্লগটি।
স্পেস শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস ছায়া’য় নিজের অব্যবহৃত জায়গা অন্যের প্রয়োজনে দিয়ে বের করে ফেলতে পারেন রোজগারের উপায়
সামাজিক উদ্যোগে ছায়া
ছায়া’র প্রতিষ্ঠাতাদের পাশাপাশি অনেকেই এখানে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। এখানেই গতানুগতিক কনভেনশন সেন্টারের সাথে ছায়া’র পার্থক্য। হয়তো আপনার বাসার ছাদে আছে খোলামেলা পরিবেশ, কিংবা সবুজে ঘেরা একটি লন। তাহলে খুব সহজেই আপনি সেগুলোর ছবি তুলে পোস্ট করে দিতে পারেন ছায়া’র ওয়েবসাইটে। সাথে দিয়ে দিন সেখানে সময় কাটানোর জন্য মানুষকে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। ব্যস, আপনার দেখানো জায়গাগুলো কারও পছন্দ ও প্রয়োজনের সাথে মিলে গেলেই ছায়া’র সহযোগিতায় আপনার পছন্দের অব্যবহৃত জায়গা হয়ে উঠতে পারে কারও অত্যন্ত প্রয়োজনের ও আনন্দের খোরাক।
অন্য চিন্তাধারা
ছায়া’র মাধ্যমে ঘনঘন কনভেনশন সেন্টার কিংবা বিশাল লন সমৃদ্ধ ডেস্টিনেশনের পিছনে অনেক টাকা খরচ করা ছাড়াই মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিজের আয়ত্তে পড়ে থাকা, সুন্দর নিদর্শন, করিডোর, ছাদ কিংবা লন শেয়ারের মাধ্যমে অনেকে রোজগারের নতুন উপায়ও করে নিতে পারেন।
এমন ভিন্নধর্মী ও প্রয়োজনীয় চিন্তা দিয়েই তারা পেরেছে এই বর্ধমান কোলাহলের মাঝেও নিজেদের কমতি ও প্রয়োজনকে ভাগাভাগি করে একে অপরের প্রয়োজন মেটাতে।
এমনই আরও দারুন ব্লগ পড়তে YSSE Blog ভিজিট করুন।
সাদিয়া হুমাইরা
কন্টেন্ট রাইটিং ইন্টার্ন, YSSE