বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

ভালো কাজে যেমন পুরস্কার, খারাপ কাজে তেমন শাস্তিও হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬২ সময় দেখুন
ভালো কাজে যেমন পুরস্কার, খারাপ কাজে তেমন শাস্তিও হবে : প্রধানমন্ত্রী


ইউনাইটেড নিউজ ডেস্ক :: সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভালো কাজের যেমন পুরস্কার পাবেন, তেমনি কেউ যদি খারাপ কাজে সম্পৃক্ত হন, তাহলে তাদের ক্ষমা নেই। তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এই শৃঙ্খলাটা, এই নিয়মটা থাকতে হবে এবং সেটাই আমরা করব।

গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’-এর উদ্বোধন এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের জনপ্রশাসন পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণহারে টিকাদানে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়ে কাজ করলে আপনারা অনেক বেশি জানার সুযোগ পান, মানুষের সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানতে পারেন। কীভাবে একেকটা এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা যায়, সেটা আপনারা সবচেয়ে ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। আমি আশা করি, সেভাবেই আপনারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কীভাবে নেওয়া যায়, কীভাবে মানুষের সেবা করা যায়, কীভাবে মানুষকে উন্নত জীবন দেওয়া যায়- সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন, যেন আমরা যাতে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতির পিতার ভাষণের উদ্বৃতি তুলে ধরে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানুষের সেবা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছেন, ‘সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন, যাদের অর্থে আজকে আমরা চলছি তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে, তাদের অবশ্যই আপনারা কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একটা নিরপরাধ লোকের ওপর যেন অত্যাচার না হয়। তাহলে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। আপনারা সেইদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা যদি অত্যাচার করেন, শেষ পর্যন্ত আমাকেও আল্লাহর কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, আমি আপনাদের নেতা, আমারও সেখানে দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের প্রত্যেকটি কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়ে চাপে। আমার সহকর্মীদের ঘাড়েও চাপে। এ জন্য আপনাদের কাছে আমার আবেদন রইল, অনুরোধ রইল, আদেশ রইল- আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ার আর কিছুতে হয় না। একজন গরিব যদি হাত তুলে আপনার জন্য দোয়া করেন, আল্লাহ সেটা কবুল করে নেন।’

মহামারির এ সময়ে বাজেট দেওয়া কঠিন ছিল জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সেই বাজেট যেন ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন মান ঠিক রেখে বাস্তবায়ন করা যায়, আর যেখানে সেখানে শুধু একটা কিছু নির্মাণের জন্য নির্মাণ যেন না হয়, যেটা আদতে প্রয়োজন দেশের জন্য, মানুষের জন্য, সে রকমই যেন আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পটা হয়, পরিকল্পনাটা হয়।

তিনি করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি করোনা আক্রান্তদের সেবা করতে গিয়ে গত এক-দেড় বছরে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, সেসব সরকারি কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তার দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন কিনতে যত টাকাই লাগুক না কেন, সেটা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরি করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়। সেটাই আমরা করব।

এরই মধ্যে দেশের এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষের টিকা পাওয়ার তথ্য দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষ, টিকা পাওয়ার যাদের বয়স হয়েছে, তারা কেউ বাদ যাবে না। আমাদের ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে সবার জন্য এই টিকা ক্রয় করতে থাকব, আনতে থাকব এবং দিতে থাকব। সে ব্যবস্থাটা আমরা অবশ্যই করব।

২৭ জুলাই নিজের জন্য বিশেষ দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্মদিন। ৫০ বছর বয়স হলো জয়ের। এই করোনার কারণে আমরা একসঙ্গে হতে পারলাম না। এটা আরেকটা দুঃখ। আপনারা এই দিনটি স্মরণ করছেন, সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আলী আজমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ জুলাই ছিল পাবলিক সার্ভিস দিবস। করোনার কারণে এটির আয়োজন পিছিয়ে গতকাল করা হয়। জনপ্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় অনুষ্ঠানে ৩৫ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালের জন্য জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৫টি এবং ২০২১ সালের জন্য ২০টি পদক দেওয়া হয়।

‘আ’লীগই মাঠে থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে’ :প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মী ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনার দুর্যোগকালে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সারাবিশ্বে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। এই সংকটে একমাত্র আওয়ামী লীগই দৃশ্যমান মাঠে থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। গতকাল আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রকাশিত ‘স্বেচ্ছাসেবার ১ বছর ২০১৯-২০২০’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। শুরুতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের গত এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা সকালে সংগঠন কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর