বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

টিপু ও প্রীতি হত্যা: শুটার মাসুম ৭ দিনের রিমান্ডে – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২
  • ২০০ সময় দেখুন
টিপু ও প্রীতি হত্যা: শুটার মাসুম ৭ দিনের রিমান্ডে – Corporate Sangbad


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাসুমকে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন সিকদার। পরে শুনানি শেষে তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে শনিবার (২৬ মার্চ) রাতে বগুড়া জেলা থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন আগে ‘কাট-আউট’ পদ্ধতিতে হত্যার ‘কন্ট্রাক্ট’ পেয়েছিলেন মাসুম। কিলিং মিশনের একদিন আগে তার কাছে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হয়।

রোববার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবির) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার।

হাফিজ আক্তার বলেন, হত্যার আগের দিন টিপু রেস্টুরেন্ট থেকে বাসার উদ্দেশে বের হলে রাস্তা অনুসরণ করে গুলি করার প্রস্তুতি নেন মাসুম। কিন্তু, বেশি লোকজন থাকায় তিনি ব্যর্থ হন। ঘটনার দিন ২৪ মার্চ অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি টিপুর রেস্টুরেন্টে অবস্থান করে মাসুমকে আপডেট দিতে থাকেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় জাহিদুল ইসলাম টিপুকে। এ সময় নিহত হন ঘটনাস্থলের পাশে রিকশায় থাকা প্রীতি নামের এক কলেজছাত্রী। আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম বলেন, আমার টার্গেট ছিল টিপুকে হত্যা করা। তাই আমি অস্ত্রের ট্রিগার চেপে রেখেছিলাম। একাধারে গুলি বের হচ্ছিল। প্রীতিকে টার্গেট করে গুলি মারিনি। প্রীতির শরীরে যে গুলি লেগেছে সেটা আমি জানতাম না। হত্যার পরের দিন টিভি দেখে জেনেছি। তাকে আমি গুলি করতেও যাইনি। আমার টার্গেট ছিল কেবল টিপু।

এ কে এম হাফিজ আক্তার আরো জানান, টিপুকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে শুটার মাসুম। হত্যায় তার সাথে তার এক সহোযোগিও ছিল। তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।

টিপু হত্যাকাণ্ডে কত টাকা কন্ট্রাক্ট হয়েছে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, কত টাকার বিনিময়ে, তা জানা যায়নি। তবে, গ্রেপ্তার মাসুমের এলাকায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। সে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য টিপুকে হত্যার কন্ট্রাক্ট পান তিনি।

ডিবি প্রধান বলেন, হত্যার পর ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে চলে যান মাসুম। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। এর পরদিন বগুড়ায় চলে যান। বগুড়া জেলা পুলিশের সহায়তা তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুম মনে করেছিলেন, তিনি ধরা পড়বেন না।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামিয়া হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশে রিকশায় থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি (২৪) গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় টিপুর গাড়িচালক মুন্না (২৬) গুলিবিদ্ধ হন।

মাইক্রোবাসের ডানপাশে রিকশায় প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু ও ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সামিয়া প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া জানান, ঘটনার সময় তারা শাজাহানপুর আমতলা এলাকায় রিকশায় ছিলেন। তখন হঠাৎ কোথা থেকে গুলি এসে প্রীতির গায়ে লাগে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার রাতেই ডিএমপির শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আমতলা মসজিদের কাছে খিলগাঁও রেলগেটের সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল একটি মোটরসাইকেল। হেলমেট পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নেমে গাড়ির মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুলের ওপর গুলি চালায়।

টার্গেটের খুব কাছ থেকে পরপর ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০টি গুলি ভেদ করে জাহিদুল ইসলাম টিপুর শরীর।

স্থানীয় এলাকাবাসী, পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত টিপু মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন।

টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর