শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বিশ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার (৩ এপ্রিল) সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমজি আজম তার জামিন আবেদন বাতিল করে এই আদেশ দেন।
আসামী রফিকুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলা সদরের হলিধানী প্রতাপপুর গ্রামের মৃত আফছার আলীর ছেলে ও বর্তৃানে বরগুনা জেলার তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের ঠিকাদার মৃত আব্দুল মজিদের মেয়ে তানিয়া আফরিনকে ২০১৩ সালের ২২ মার্চ কালিগঞ্জ থানায় উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন ঝিনাইদহ সদরের হলিধানী গ্রামের রফিকুল ইসলাম।
বিয়ের আগে ৫ লাখ ও বিয়ের পর ১৩ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নেন রফিকুল। এরপরও ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে তানিয়াকে মারপিট করে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর তাড়িয়ে দেয় রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর মীমাংসার নামে কালিগঞ্জের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামে এসে স্ত্রীকে দোতলায় ডেকে নিয়ে মারপিট করে চলে যায়
মারাত্মক জখম অবস্থায় তানিয়াকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারী তানিয়া তার স্বামী রফিকুল, শ্বাশুড়ি রাহেলা, দেবর সাইফুল ও সাইফুলের স্ত্রী নাহারের নামে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন ২৯ / ২১ নং মামলা দায়ের করেন।
বিচারক এমজি আযম মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.আব্দুল মজিদ (২) এর সেরেস্তার এ্যাডভোকেট বসির আহম্মেদ। বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহার ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রফিকুলের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা আছে মর্মে গত বছরের ২২ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমজি আযম আসামি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তানিয়া আরেফিনের অভিযোগ , বাদীপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট বসীর আহম্মেদ হলেও আসামীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে একই সেরেস্তার এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ (২) হওয়ায় তিনি অবাক হয়ে যান। কারন এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদের পরামর্শ অনুযায়ী তারই সেরেস্তায় মামলা করা হয়। একপর্যায়ে আসামি মীমাংসার নামে তিন বার জামিন নেন। বিপদ বুঝে তিনি আইনজীবী পরিবর্তন করেন। রোববার আসামীপক্ষের আইনজীবী আদালতে আসামী রফিকুলের ইসলামের স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন।
এ দিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি এ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু , এ্যাডভোকেট এসএম হায়দার , এ্যাডভোকেট তপন কুমার দাস আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
উভয়পক্ষের শুনানী শেষে বিচারক এমজি আযম আসামী রফিকুল ইসলামের জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।