শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ধীর গতি, অতিরিক্ত যাচ্ছে ৫ বছর

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩
  • ১০১ সময় দেখুন
মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ধীর গতি, অতিরিক্ত যাচ্ছে ৫ বছর


জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে দেশে আরও নয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ধীর গতিতে চলছে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। প্রায় ৪ বছর ৮ মাস পার হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। এখন ব্যয় কিছুটা কমলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর।

ফলে ২ বছর ৮ মাসের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে ৭ বছর ৮ মাস। এ জন্য দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে ‘৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের। আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সেখানে নানা বিষয়ে এ প্রশ্ন তোলা হবে বলে জানা গেছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সারাবাংলাকে জানান, করোনা মহামারির ধাক্কা সামলিয়ে না উঠতেই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রকল্পটি বি ক্যাটাগরিভুক্ত ছিল। ফলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পায়নি।

প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবার জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। সেইসঙ্গে জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর, জয়পুরহাট জেলা শহর এবং শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান অধ্যূষিত এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, বর্ধণশীল শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুনে বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ কর্ম ধীরে হওয়ায় মোট ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদকাল এক বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

এরপর অনুমোদিত প্রকল্পের আওতাধীন জমিগুলোর প্রকৃত মূল্য ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংস্থান করা মূল্য অপেক্ষা কম বা বেশি হওয়া , তিনটি ( চট্টগ্রাম ২টি ও রাজশাহী একটি) জমির স্থান পরিবর্তন, ২টি জমির দাগসূচি ও পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার পরিপত্রের জন্য বিভিন্ন অঙ্গগুলোর পরিবর্তনের কারণে ব্যয় হ্রাস বা বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট প্রকল্প ব্যয় বড়িয়ে  ৪৬৪ কোটি ব্যয় ধরা হয়েছিল। এর সঙ্গে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করে। কিন্তু এতেও শেষ হয়নি কাজ।

বর্তমানে গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পূর্ত কাজের অনুমোদিত পিডব্লিউডি’র রেট সিডিউল ২০১৮-এর পরিবর্তে রেট সিডিউল-২০২২ অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গগুলোর ব্যয় হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ কোটি টাকা হ্রাস করে (২ দশমিক ৮০ শতাংশ) মোট ৪৫১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ, পিডব্লিউডি’র রেট সিডিউল পরিবর্তন: সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ভৌত কাজের ব্যয় প্রাক্কলন পিডব্লিউডি’র রেট সিডিউল ২০১৪ ও পিডব্লিউডি’র রেট সিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী করা হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে পিডব্লিউডি’র রেট সিডিউল-২০২২ কার্যকর হওয়ায় ভৌত কাজের সংশোধিত ব্যয় প্রাক্কলন চলমান রেট সিডিউল অনুসরণে করা হয়। ফলে প্রস্তাবিত নতুন ব্যয় প্রাক্কলন অনুমোদন নেওয়ায় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন প্রয়োজন।

নতুন অর্ন্তভুক্তি: অনুমোদিত ডিপিপিতে বাড়ীভাড়া (পিআইইউ) অঙ্গটি ছিল না। প্রস্তাবিত আরডিপিপিতে অঙ্গটি নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যয় কিছু বেড়েছে।

কিছু খাতে বেড়েছে ব্যয়: কর্মকর্তাদের বেতন ভাতাদি, পরিচালন ব্যয় (পিআইইউ), পরিচালন ব্যয় (আউটসোর্সিং জনবলের বেতন ভাতা), বাড়ী ভাড়া (পিআইইউ), মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (পিআইইউ), ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গেট নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ ইত্যাদি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যয় কমেছে কিছু খাতে: ভূমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি ইত্যাদি খাতে ব্যয় কমেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত: প্রায় ৪ বছর ৮ মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। ধীর গতি হওয়ার কারণসহ প্রকল্পের সমাপ্ত এবং অসমাপ্ত কার্যক্রম গুলো সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া প্রস্তাবিত ভবনগুলোর  ভৌত কাজের সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা গুলো গ্রান্ট চ্যাট সভায় উপস্থাপনসহ ডিপিপিতে সংযোজন করা আবশ্যক।

দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ অনুমোদিত প্রথম সংশোধিত প্রকল্প থেকে কমার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কী না এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সভায় জানাতে পারেন।

প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাবে কর্মকর্তাদের বেতন, পরিচালন ব্যয় (পিআইইউ), পরিচালন ব্যয় (জনবলের বেতন ভাতা), বাড়ি ভাড়া, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (পিআইইউ), ভূমি উন্নয়ন, সীমানা নির্মাণ, গেট এবং অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ ইত্যাদি খাতগুলো যথাক্রমে ১৬ লাখ, ১৩ লাখ ৪৩ হাজার, ৮০ লাখ ৫০ হাজার, ১৯ লাখ, ৩৬ লাখ, ৪ লাখ, ৮ কোটি ৭৩ লাখ, ৯ কোটি ৪২ লাখ, ৪৫ লাখ, ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সকল অঙ্গের বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতি এবং এ সকল খাতগুলো ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধনী ভূমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি ইত্যাদি খাতগুলো যথাক্রমে ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা কমার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পিআইইউ এর অফিস ভাড়া আগে ধরা না হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ। এছাড়া পিআইইউ এর মেরামত খাতে ৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ২৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। পিআইইউ এর অনুমোদিত কর্মকর্তা কর্মচারী ৫ জন (১৬ থেকে ৪ গ্রেড) হলেও আসবাবপত্র ৫৬টি, অফিস যন্ত্রপাতি ৪১টি রয়েছে।

এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। বর্তমান সরকারের আর্থিক কৃচ্ছ্রতা সাধনের জন্য প্রকল্পের শুরুতে যেহেতু বাড়ি ভাড়ার খাতটি প্রয়োজন হয়নি সেহেতু এ খাতটি প্রস্তাবিত আরডিপিপি থেকে বাদ দেযা পারে। সীমানা প্রাচীর ৯টি গেটের জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা, গেইট নির্মাণ অভ্যন্তরীণ আর সি সি রাস্তা নির্মাণের যৌক্তিকতা সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক স্তর হতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীতকরণে পিএসসি সভার সিদ্ধান্ত হয়েছে । সে কারণে সংশোধিত প্রস্তাবে মাধ্যমিক স্তর হতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নতীকরণ এবং ডিপিপির সংস্থান করা পদের অতিরিক্ত পদ সৃজনের প্রয়োজন।

সারাবাংলা/জেজে/এনইউ





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর