সাকিব আল হাসান নাহিদ, জামালপুর।
জামালপুরের মেলান্দহে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে কম হলেও রাতে তিন থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার মানুষ একদিকে তাপদাহে ভ্যাপসা গরম, অপরদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং এর সাথে লো ভোল্টেজ জনজীবনে যেন নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী বিদ্যুতের ঘাটতি নেই বললেও এর বিপরীতে মেলান্দহের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয় না। দুটি পাওয়ার প্ল্যান্টে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হলে এমন লোডশেডিং হবে না।
তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র।
বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকগণ। এই এলাকায় বিদ্যুৎ এই আসে এই যায় অবস্থায় রয়েছে, বিদ্যুতের এই ভেল্কিবাজিতে জনমনে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের দেখা মিললেও লো ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, খাবারের পানি ও গৃহস্থালির প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা কমপ্রেসার চালানো একেবারেই অসম্ভবপর হয়ে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে এই ভোগান্তির মাত্রা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। কি রাত, কি দিন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন লেগেই আছে।
মেলান্দহ কামদেববাড়ীর ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান নয়ন বলেন ,আকাশে মেঘ করলে লোডশেডিং, বৃষ্টির দোহায় দিয়েই বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ নেই, আবার দিনের বেলায় গাছ কাটার নাম করে বিদ্যুৎ বন্ধ, যেদিন সব কিছু ভালো থাকে সে দিন প্রতি ঘন্টায় একবার হলেও লোডশেডিং দিতে হয় কেন। আমি বাঘাইছড়ির বিদ্যুৎ অফিসে কর্মকর্তাদের কাজের অবহেলাকে এর জন্য দায়ী করছি।
এবিষয়ে মেলান্দহ পল্লিবিদ্যুতের জোনাল অফিসের এজিএম শোয়েব আহমেদ বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় জামালপুরের ইউনাইটেড ও শিকদার পাওয়ার প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়নি। তাই দুটি পাওয়ার প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণে জন্য প্রতিদিন কাজ চলছে। তাই জামালপুর গ্রিডে লো-ভোল্টেজ এবং আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি চলছে। তাই ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ১৫ তারিখের মধ্যেই শেষ হবে। কাজ শেষ হলে তেমন লোডশেডিং আর হবে না।