শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

জুলাই বিপ্লবের আগেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ব্যবসা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ সময় দেখুন
জুলাই বিপ্লবের আগেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ব্যবসা

এখন ঝুট–চোরাই তেল বাণিজ্যেও নিয়ন্ত্রণ আলী আব্বাসের

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তিনি দলটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে প্রকাশ্য ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন বাণিজ্য কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁর এই নীরব কিন্তু দৃশ্যমান দাপট এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিএনপির ভেতরেও প্রশ্নের ঝড় তুলেছে।
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, হায়দার আলী ও আমীর আহমদের সঙ্গে যৌথভাবে ‘কর্ণফুলী বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপার (প্রা.) লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আলী আব্বাস। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নথিতে দেখা যায়—আলী আব্বাসের শেয়ার চার হাজার, আর বাকি তিন আওয়ামী লীগ নেতার শেয়ার দুই হাজার করে। মোহাম্মদ আলী কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য; হায়দার আলী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক; আর আমীর আহমদ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।
একজন বিএনপি শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রাখার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি করেছে।

গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যখন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান, তখন কর্ণফুলীতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এখানকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যেই থাকলেও ঝুট ব্যবসা, কারখানার বাতিল মালামাল ব্যবস্থাপনা, নদীপথে চোরাই তেল বাণিজ্য এবং ঘাটের নিয়ন্ত্রণ—এসব খাতে হঠাৎই প্রভাব বাড়তে থাকে বিএনপি নেতা আলী আব্বাসের।

অভ্যুত্থানের আগে এসব খাত স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর একাধিক কারখানার ঝুটের দখল চলে যায় আলী আব্বাসের হাতে। ফোর এইচ গ্রুপের একটি চিঠি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ আগস্ট গ্রুপটির দুটি তৈরি পোশাক কারখানা—‘ব্যালামী টেক্সটাইলস লিমিটেড’ এবং ‘ডিভাইন ইন্টিমেটস লিমিটেড’—এর বাতিল ঝুট তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। পাশাপাশি ‘ইন্টিমেটস ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর বাতিল মালামালও তাঁর তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। যদিও নথিতে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কেনা–বেচার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে আলী আব্বাসই পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারখানায় মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার ঝুট কেনাবেচা হয়—এর বড় অংশই এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন আলী আব্বাস।

অভ্যুত্থানের পর নদীপথের চোরাই তেল বাণিজ্য, ঘাটের দখল এবং তেল ওঠানোর সিরিয়াল নিয়েও আলী আব্বাস ও স্থানীয় আরেক শীর্ষ বিএনপি নেতার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পুলিশ ও রাজনৈতিক সূত্র জানায়, গত ২৮ মে কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার বিওসি ঘাটে দুই পক্ষ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাই তেলের পুরনো সিন্ডিকেট নিয়ে আগেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল; তার মধ্যেই নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন আলী আব্বাসপন্থীরা। এতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কর্ণফুলীতে আওয়ামী লীগ–বিএনপি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝেও আলী আব্বাসের ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক বিস্তার ও প্রভাব স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

এসব বিষয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক আলী আব্বাস অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর