নিজস্ব প্রতিবেদক : চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (২৯ আগস্ট) মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন জানান।
রিটে বলা হয়, আসামিকে আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে ও রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় ঠিক করে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে, সে অনুযায়ী পরী মণিকে মাদকের একটি মামলায় বারবার রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে রিট করা হয়েছে।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
আবেদনে জামিন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে রিমান্ড সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলার নজির তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট পরীমনির বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার জামিন আবেদনের ওপর দ্রুত শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির বিষয়ে দিন নির্ধারণের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, রুলে তাও জানতে চান আদালত।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং সেদিন পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র্যাব। এ সময় পরীমনির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করার কথা জানানো হয়। পরেরদিন ৫ আগস্ট র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
পরে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন আবেদন করা হয়। সে আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট পরীমনি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।