শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাম ও হামের উপসর্গে ৩০ দিনে ১৪৩ শিশুর মৃত্যু Youth-led Innovation Lab-এ ইপসার সাফল্য, জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে TeaCycle ও Econova দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার রাকসু নির্বাচন: মেয়াদ শেষ, দ্রুত নির্বাচনের দাবি ছাত্রনেতাদের কালিয়াকৈরে ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের উপরে ময়লার ভাগার সাধারণ পথচারীর চরম জনদুর্ভোগ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ৪ জাহাজে আগুন Ankur Rathee Calls Indian Cinema’s Fair-Skin Bias ‘Dangerous’: ‘West Idolises Lupita Nyong’O’ | Exclusive | Bollywood News ‘I was very happy’: Smriti Mandhana reveals MS Dhoni’s special WhatsApp message after World Cup win | Cricket News পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

রাকসু নির্বাচন: মেয়াদ শেষ, দ্রুত নির্বাচনের দাবি ছাত্রনেতাদের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৪ সময় দেখুন
রাকসু নির্বাচন: মেয়াদ শেষ, দ্রুত নির্বাচনের দাবি ছাত্রনেতাদের


রাবি: দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে। তবে সেই প্রত্যাশার ধারাবাহিকতা নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন আয়োজনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। এ অবস্থায় দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি উঠেছে রাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে সেপ্টেম্বরে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কয়েক দফা পরিবর্তনের পর ১৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্যানেলটির ২৪ দফা ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। তবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর। তবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘নতুন নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে উপাচার্যের ওপর। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই নির্বাচন হবে। আমার কাছে যেসব তথ্য বা ফাইল চাওয়া হয়েছিল, আমি সব প্রস্তুত করে দিয়ে দিয়েছি।’

নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য আমাকে আগের নির্বাচনের অবস্থা, কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কী কী সমস্যা ছিল সেসব তথ্যসহ একটি ফাইল দিতে বলেছিলেন। আমি সে অনুযায়ী তাকে ফাইল দিয়েছি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রাখার অংশ হিসেবে হয়তো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তার কিছুই এখনো দৃশ্যমান নয়।’

তবে রাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত দাবি জানিয়ে আসছেন।

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাকসু আদায় করে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমার ইশতেহারেও রাকসু সচল রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমাদের জায়গা থেকে আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। তবে আমাদের মনে হচ্ছে, প্রশাসন দলীয় সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিলেও রাকসু নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় ছাত্ররা চাইলে নির্বাচন হবে। কিন্তু ছাত্ররা যে নির্বাচন চায়, সেটি তো গত নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসন নির্বাচন না দেওয়ার পথ তৈরি করছে।’

এ বিষয়ে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবছি। আমরা সবসময়ই চাই ছাত্র সংসদ থাকুক এবং নির্বাচন হোক। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। শুধু সময় হলেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়, সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকতে হয়। যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হবে, তখনই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’

অন্যদিকে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলোও জানিয়েছেন দ্রুত নির্বাচনের দাবি। রাকসুর নির্বাচন ও কার্যক্রম ধারাবাহিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, ‘রাকসু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণ্ণ রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের লিগ্যাল প্ল্যাটফর্ম বলা যায়। প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে সেতুবন্ধন, সেটির জন্যও রাকসু গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে চাই, রাকসু নির্বাচন অব্যাহত থাকুক।’

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ‘স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন তথা ছাত্র সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান জরুরি। সহাবস্থান ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরের অপর নাম ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এটি শুধু ছাত্রদল নয়, প্রতিটি সংগঠনের কাছেই জনপ্রিয় দাবি। আমরা বরাবরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। রাকসুর এই ধারা অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘এবারের রাকসু প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাকসুর প্রয়োজন রয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করলে রাকসুর মাধ্যমে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরাও রাকসু চাই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, আপনারা রাকসুর দাবিতে সোচ্চার হোন।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর